আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন নিজেদের প্রচার-প্রচারণায়। এদের মধ্যে আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম। স্থানীয়ভাবে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভোটারদের মধ্যে নানা আলোচনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দিন যত গড়াচ্ছে, তার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে সাধারণ ভোটারদের।
মাওলানা আব্দুল হাকিম পূর্বে বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সমর্থকদের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে তিনি সততা ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকায় পরিচিতি অর্জন করেন। তারা বলেন, স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, শিক্ষা ও সামাজিক উদ্যোগে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।
বড়াইগ্রামের বনপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, “উপজেলা পরিষদে দায়িত্ব পালনকালে তাকে সাধারণ মানুষের কাছে পাওয়া যেত। এলাকার বিভিন্ন সমস্যায় তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন বলে আমরা দেখেছি।”
গুরুদাসপুরের নাজিরপুর গ্রামের এক তরুণ ভোটার মাহমুদ হাসান বলেন, “নতুন প্রজন্ম এখন শিক্ষিত ও সচেতন নেতৃত্ব চায়। তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কারণে তিনি অনেকের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।”
তবে সব ভোটারের মতামত একরকম নয়। গুরুদাসপুর উপজেলার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “নির্বাচনে ব্যক্তির পাশাপাশি দলীয় অবস্থান ও জাতীয় রাজনীতিও বড় বিষয়। ভোটাররা সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবেন।”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাটোর-৪ আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য দল ও প্রার্থীর কার্যক্রমও বাড়বে, যা পুরো নির্বাচনী পরিস্থিতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
এদিকে মাওলানা আব্দুল হাকিম গণসংযোগ কার্যক্রম জোরদার করেছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে। তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা, সামাজিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “আমি এলাকার মানুষের সেবা করতে চাই। জনগণ যদি সুযোগ দেয়, তাহলে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজকে অগ্রাধিকার দেব।”
স্থানীয় ভোটারদের মতে, নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসবে, ততই প্রার্থীদের কর্মকাণ্ড, দলীয় অবস্থান এবং জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ভোটের সমীকরণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




