নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার বিএনপিতে ফিরব- নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার বিএনপিতে ফেরার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় সম্প্রতি তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে লালপুরের গোপালপুর কড়ইতলা চত্বরে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সমাবেশে গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম (বিমল) এবং লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আতিকুল্লাহ বিশ্বাস (গ্যাদা) উপস্থিত হয়ে তাঁর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।

গতকাল বিকেল চারটায় জনসভা শুরুর অনেক আগেই কর্মী-সমর্থকে কড়ইতলা চত্বর ভর্তি হয়ে যায়। সবার হাতে শোভা পাচ্ছিল তাইফুল ইসলামের নির্বাচনী প্রতীক ‘কলস’। বর্ণিল সাজে কলস সাজিয়ে কর্মীরা তাইফুলের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছিলেন।

নির্বাচনী জনসভায় তাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জীবন বাজি রেখে দলের জন্য সবকিছু করেছি। জেল-জুলুম সব সহ্য করেছি। দলের আনুগত্য বজায় রেখেছি। কিন্তু যে ভোটারদের জন্য রাজনীতি করি, সেই ভোটারদের দাবি যখন দল উপেক্ষা করে, তখন আমি তো ভোটারদের ফেলে দিতে পারি না। তাই তাঁদের দাবির মুখে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। তাঁদের সমর্থন নিয়েই নির্বাচনে জয়যুক্ত হব, ইনশা আল্লাহ। এরপর দল চাইলে অবশ্যই প্রিয় দলে ফিরে যাব।’

সমাবেশে বিএনপির সাবেক নেতা আতিকুল্লাহ বিশ্বাস বলেন, ‘আমি প্রায় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে লালপুরে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত আছি। লালপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলাম। অথচ একটি পরিবারের রোষানলে পড়ে আমি কোনঠাসা হয়ে পড়ি। তবে শত চেষ্টা করেও আর দাবিয়ে রাখা যাবে না। এবার তাইফুল ইসলামকে জয়যুক্ত করে সেই পরিবারের ভুল ভাঙাব।’

পৌরসভার চারবারের নির্বাচিত মেয়র মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রদল, যুবদল ও মূল দল করে জেলা বিএনপির নেতা হয়েছিলাম। কোনো অপরাধ না করেও শুধু একজন নেতার ষড়যন্ত্রে পদ হারিয়েছিলাম। কিন্তু এলাকার মানুষ আমাকে বাদ দেননি। ভোটাররা বারবার নির্বাচিত করে আমাকে সম্মানিত করেছেন। এবার দল থেকে বহিষ্কার করা তাইফুল ইসলামকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করে সেই ষড়যন্ত্র রুখে দেব।’

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমিন। তিনি বিএনপির প্রয়াত কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুর রহমানের (পটল) মেয়ে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top