নাটোরের বড়াইগ্রামের একটি ফিলিং স্টেশনে সিরিয়াল অমান্য করায় এলপিজি গ্যাস না দেওয়ায় নাটোর-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আজিজের ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামান সোহাগের নেতৃত্বে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় উপস্থিত সিএনজি চালিত থ্রি-হুইলার চালকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই প্রার্থীর ছেলেসহ তার কয়েকজন অনুসারীকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতারা ঘটনাস্থল থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের রয়না ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন মধু এলপিজি ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সিএনজি চালকরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে প্রাইভেটকার ও সিএনজি চালিত থ্রি-হুইলার চালকরা সিরিয়াল মেনে ফিলিং স্টেশন থেকে এলপিজি গ্যাস সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় মাহমুদুজ্জামান সোহাগের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা কয়েকটি প্রাইভেটকার নিয়ে ফিলিং স্টেশনে এসে সিরিয়াল অমান্য করে সরাসরি ঢুকে পড়েন।
তারা জানান, এ সময় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জসিম উদ্দিন তাদেরকে সিরিয়াল অনুযায়ী তাদেরকে গ্যাস নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাহমুদুজ্জামান সোহাগের অনুসারীরা তার সামনেই ম্যানেজার জসিমের কলার ধরে কয়েকটি ঘুষি মারেন। এমন ঘটনায় সিরিয়ালে অপেক্ষমান যানবাহনের চালকরা ক্ষুব্ধ হয়ে সোহাগসহ তার অনুসারীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিএনজি চালক বলেন, আমরা এই আসনের ভোটার। সামনে নির্বাচন। কিন্তু আমাদের প্রার্থীর ছেলে ও তার লোকজন আজ সবার সামনে যে আচরণটি করলেন তা খুবই নিন্দনীয়। নির্বাচনের আগেই তাদের এমন আচরণ আমাদের খুবই হতাশ করেছে।
রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী প্রাইভেটকার চালক আব্দুস সালাম বলেন, আমাদের সামনেই বিএনপির কর্মীরা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে হেনস্থা করেছে। ম্যানেজার তাদেরকে অনুরোধের সাথে কথা বললেও তারা খুবই উগ্রতার পরিচয় দিয়েছে। যাদের ভোটে ক্ষমতায় যাবে, তাদের সাথে এমন আচরণ করা ঠিক না।
এ ব্যাপারে ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার জসিম উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে নিরাপত্তাহীনতার কারণে কিছু বলতে রাজি হননি।
জানতে চাইলে নাটোর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আজিজের ছেলে মাহমুদুজ্জামান সোহাগ জানান, এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। গ্যাস নিতে গিয়ে ছাত্রদলের একজন কর্মীর সঙ্গে ফিলিং স্টেশনের একজন কর্মীর তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। হেনস্তা বা মারপিটের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম বলেন, এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




